মাউন্ট এভারেস্ট জয় করার বিপদজনক ধাপসমূহ এবং সেগুলো

 



মাউন্ট এভারেস্ট জয় করার বিপদজনক ধাপসমূহ: যা জানা জরুরি

মাউন্ট এভারেস্ট বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এবং এটি জয় করা প্রতিটি পর্বতারোহীর স্বপ্ন। তবে, এভারেস্ট জয় করা যতটা চ্যালেঞ্জিং, ততটাই বিপদপূর্ণ। বিভিন্ন ধাপে climbers-দের অসংখ্য ঝুঁকি এবং প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। এই ব্লগে আমরা মাউন্ট এভারেস্ট জয় করার সবচেয়ে বিপদজনক ধাপগুলো নিয়ে আলোচনা করব।


---

মাউন্ট এভারেস্ট কেন বিপদজনক?

মাউন্ট এভারেস্ট জয় করার পথে climbers-দের মুখোমুখি হতে হয় চরম প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা, উচ্চ-উচ্চতার অসুস্থতা এবং অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার। বিশেষ করে যেসব ধাপ climbers-দের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলো সম্পর্কে আগাম ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি।


---

মাউন্ট এভারেস্টের বিপদজনক ধাপসমূহ

১. খুম্বু আইসফল (Khumbu Icefall):

খুম্বু আইসফল হলো এভারেস্টের বেস ক্যাম্প থেকে ক্যাম্প ১-এর পথে অবস্থিত।

বিশাল বরফের ব্লক (seracs), গভীর ক্রেভাস এবং হঠাৎ বরফ ধস (icefall) এই পথকে অত্যন্ত বিপদজনক করে তোলে।

বরফের উপর হাঁটতে climbers-দের অ্যালুমিনিয়ামের মই ব্যবহার করতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।


২. লোটসে ফেস (Lhotse Face):

ক্যাম্প ৩-এর কাছাকাছি অবস্থিত এই খাড়া বরফের দেয়ালটি প্রায় ৪,০০০ ফুট উঁচু।

এটি খুবই শক্ত বরফে আবৃত, যেখানে climbers-দের crampons এবং fixed ropes-এর সাহায্যে ওঠতে হয়।

সামান্য ভুল পদক্ষেপের কারণে climbers-দের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।


৩. ডেথ জোন (Death Zone):

৮,০০০ মিটারের ওপরে অবস্থিত অঞ্চলটি "ডেথ জোন" নামে পরিচিত।

এই উচ্চতায় অক্সিজেনের মাত্রা এতটাই কম যে climbers-দের শারীরিক এবং মানসিক সক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পায়।

উচ্চ-উচ্চতার অসুস্থতা (High-Altitude Sickness), হাইপোথারমিয়া এবং হৃৎপিণ্ডের সমস্যার ঝুঁকি এখানে অত্যন্ত বেশি।


৪. হিলারি স্টেপ (Hillary Step):

শীর্ষের খুব কাছে অবস্থিত এই সরু পাথুরে পথটি অত্যন্ত বিপদজনক।

বরফ বা পাথরের খাড়া দেয়াল climbers-দের জন্য বড় বাধা সৃষ্টি করে।

এখানে climbers-দের মধ্যে ধৈর্যের অভাব বা একটিমাত্র ভুল সিদ্ধান্ত মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।


৫. ফেরার সময়ের বিপদ (Descent):

মাউন্ট এভারেস্টে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে নামার সময়।

climbers-রা শারীরিকভাবে ক্লান্ত থাকেন এবং তাড়াহুড়ো করে নিচে নামতে গিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেন।

আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন এবং অক্সিজেনের অভাব বিপদ আরও বাড়িয়ে তোলে।




মাউন্ট এভারেস্ট জয় করার প্রধান ঝুঁকিগুলো

তুষারধ্বস (Avalanche): যে কোনো সময় ঘটতে পারে।

ডিহাইড্রেশন এবং হাইপোথারমিয়া: শীতল পরিবেশ এবং পানির অভাবের কারণে climbers-রা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মানসিক চাপ ও শারীরিক ক্লান্তি: দীর্ঘ পর্বত আরোহণের সময় মানসিকভাবে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া: বাতাসের তীব্রতা এবং তুষারঝড় climbers-দের জন্য মারাত্মক হতে পারে।




কীভাবে এ বিপদগুলো মোকাবিলা করবেন?

সঠিক প্রশিক্ষণ নিন এবং অভিজ্ঞ গাইডের সাথে যাত্রা করুন।

উচ্চ-উচ্চতায় অভিযোজিত (acclimatized) হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় নিন।

মানসম্মত সরঞ্জাম এবং পোশাক ব্যবহার করুন।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করুন।



উপসংহার

মাউন্ট এভারেস্ট জয় করা শুধুমাত্র একটি শারীরিক চ্যালেঞ্জ নয়, এটি মানসিক দৃঢ়তারও পরীক্ষা। খুম্বু আইসফল থেকে ডেথ জোন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ climbers-দের জন্য বিপদজনক হতে পারে। তবে সঠিক প্রস্তুতি, পেশাদার গাইড এবং সাবধানতা মেনে চললে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

আপনার মাউন্ট এভারেস্ট অভিযানের স্বপ্ন সফল হোক, তবে সবসময় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url