অলৌকিক ভাবে দাঁড়িয়ে আছে এই বিশাল বটগাছ।

 



বটগাছ? এই নামটি সবার কাছে খুবই পরিচিত। আমরা ছোটকাল থেকেই এইগাছ নিয়ে শুনে এসেছি অনেক রহস্যময় কল্পকাহিনি। কোনটা ভয়ের আবার কোনটা প্রেমের। আজকে অন্যরকম একটা বটগাছের গল্প বলবো। না? এটি গল্প বললেও ভূল হবে। এটি একটি বাস্তব ঘটনা। ময়মনসিংহ জেলার এিশাল উপজেলায় সাপখালী গ্রামে লালপীর শাহ্ এর মাজারের পাশে দাড়িয়ে আছে এই বটগাছ। কত বছর বয়স হবে এই গাছটার কারো কাছে এর কোন সঠিক তথ্য পাওয়া যায় নি। তবে এলাকার লোকজনের মুখে এই বটগাছ নিয়ে অলৌকিক ঘটনা বলতে শুনা যায়। সাপখালী বাসীর মতে, এই গাছটি বর্তমানে যেই জায়গাতে আছে আগে এই জায়গায় ছিলো না। আগে এই গাছটি ছিলো বর্তমানে লালপীর শাহ্ মাজার শরিফ যেই জায়গায় আছে তার উত্তর পার্শে। লালপীর শাহ্ একদিন ঐ গাছের নিচে নামাজ আদায় করতে যান। লালপীর শাহ্ নামাজরত অবস্থায় গাছটি অলৌকিক ভাবে নিজে নিজেই চলতে শুরু করে। লালপীর শাহ নামাজ আদায় করে বিষয়টা দেখে খুব অবাক হয়ে যায়। এমন সময় লালপীর শাহ্ দৈব্য বাণী শুনতে পান। দৈব্য বাণীতে বলা হয়, হে লালপীর শাহ্? আপনি এইগাছটা যেভাবেই হোক রক্ষা করুন। এইগাছ আপনার এলাকার লোকজনের জন্য কল্যান বয়ে আনবে। লালপীর শাহ্ এই দৈব্য বাণী শুনে সে দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই। এখন যেই জায়গাতে বটগাছটা আছে যখন গাছটা ঐ জায়গা দিয়ে চলে যাচ্ছিলো। তখন লালপীর শাহ্ দরগা ঘরে একটা কুড়াল ছিলো। সে সেই কুড়াল টা নিয়ে গিয়ে গাছের অর্ধেকটা কেটে ফেলে। গাছটা কাটার সাথে সাথে গাছের চলার গতি আরোও বেড়ে যায়। তাই লালপীর শাহ্ গাছের অর্ধেক অংশ আরেকটি গাছের সাথে বেঁধে রাখে। বাকী অর্ধেক গাছ চলে যায় ভালুকা উপজেলার মল্লিক বাড়ীর একটা কুমে। এখনো এই গাছের মল্লিক বাড়িতে দেখতে পাওয়া যায়। লালপীর শাহ্ মাজারের সেই অর্ধেক গাছটাই এলো ওপরে ছবিতে দেওয়া সেই বটগাছ। এই ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে এলাকায় এইগাছটি নিয়ে অনেক আলোচনার ঝড় ওঠে। তাই এই গাছটাকে দেখতে অনেক দূর থেকে লোকজন আসতে থাকে। তখন ভারত উপমহাদেশ শাসন করতো জমিদারেরা। আগেকার সময় জমিদারেরা তাদের প্রজাদের কাছে খাজনা নিতে হাতির পিঠে চরে সারারাজ্য ঘুরে বেড়াত। তখনকার সময় ময়মনসিংহের জমিদার ছিলেন শশীক্লান্ত। তিনি একদিন লালপীর শাহ্ দরগার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পুরো বিষটা জানতে পারেন। তাই তার মনেও ইচ্ছে জাগে এইগাছটা দেখার জন্য। তিনি তার সন্যদের নিয়ে হাতির পিঠে চরে চলে গেলো সেই বটাগাছটা দেখতে। যখন শশীক্লান্ত জমিদার ঐ বটগাছটার নিচে যায় তখনই সেই বটগাছ থেকে অলৌকিকভাবে একটি সোনার কুমড়া শশীক্লান্ত জমিদারের কোলে এসে পড়ে। এই অলৌকিক ঘটনা দেখে জমিদার সহ উপস্থিত সকলেই অবাক হয়ে যায়। জমিদার খুশি হয়ে তখনি হাতির পিঠ থেকে নেমে উপস্থিত সবার সামনে ঢুল পিটিয়ে ঘোষণা দেন যে, আজ থেকে এই জায়গার খাজনা আমি মওকুপ করে দিলাম। এই কথা সাপখালীর সকল অসহায় কৃষক শুনে খুশিতে আন্তহারা হয়ে যায় এবং তারা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে। তখন থেকেই মানুষ বিশ্বাস করে অনেকে অনেক কিছু মানত করতে শুরু করে এবং তারা বিভিন্ন বিপদ আপদ থেকে রক্ষা পায়। এলাকার লোক আরও বলেন, যতদিন পর্যন্ত ময়মনসিংহের জমিদার শশীক্লান্ত ছিলেন ততদিন পর্যন্ত সাপখালী থেকে কোন প্রকার খাজনা সে নেয়নি। তাই সেই ঐতিহ্য কে ধরে রাখার জন্য প্রতিবছর এখানে মেলা বসে। মেলার মাধ্যমে এলাকার লোকজন সেই পুরনো অতীত মনে রাখে।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url